কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক জগতের আলোকবর্তিকা কুমকুম রহমান

অথর
কুষ্টিয়া প্রেস ডেক্স :  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৫ মে ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক জগতের আলোকবর্তিকা কুমকুম রহমান

নূর মোহাম্মদ রবিউল।। কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক জগতের এক আলোকবর্তিকা কুমকুম রহমান। জেলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গণে তিনি যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন বলে অনেক সাংস্কৃতিককর্মীরা মনে করেছেন। সবার হৃদয়ে একজন সফল প্রিয় সংগীত শিল্পী হিসেবে যেমন, ঠিক তেমনি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবেও তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

বাংলাদেশ বেতার খুলনা ও বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর প্রাক্তন এই শিল্পী কুমকুম রহমান কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরসঙ্ঘ’ ও ‘শিঞ্জন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। একাধারে তিনি সংগীত চর্চার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে তার অনুপ্রেরণায় আজ জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণ আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে। এখনও তিনি ওতপ্রতভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

তিনি কুষ্টিয়ার শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যচর্চাকে বিকশিত করতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব ও প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মীদের একত্রিত করে জেলার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছেন।

তার নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় দিবস, মেলা, উৎসব, নাটক, গান ও আবৃত্তির অনুষ্ঠান পরিচালনা সূধীমহলে সমাদিত হয়েছে।

জেলার প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কুমকুম রহমানের সৃষ্ট বেশ কয়েকটি সংগীত ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে যুক্ত হয়ে আজ অনেক তরুণ প্রজন্ম শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি মননিবেশ করেছেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত কুমকুম রহমান শিল্পী গড়ার বাতিঘর বললেও যথার্থ। তার সহযোগিতায় আজ অনেকে সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

কুমকুম রহমান বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি লালন একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য সহ সংস্কৃতি চর্চায় যুক্ত আছেন।

কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত কুমকুম রহমানের পিতা ছিলেন মরহুম উস্তাদ ইব্রাহিম হোসেন খান। তিনিও ছিলেন একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক। আর কুমকুম রহমানের শ্বশুর ছিলেন মরহুম অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৬ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমানের একজন অন্যতম আস্থাভাজন ব্যক্তি।

কুমকুম রহমান সাংস্কৃতিক জগতে বিচরণের পাশাপাশি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শৈশব থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। ১৯৮০ সালে কুষ্টিয়া জেলা শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিল্পী গোষ্ঠীতে শিশু শিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটে সক্রিয় সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু করেন। তার দীর্ঘ ৩৫ বছর এর রাজনৈতিক চেতনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেন দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৮৯ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় তার বাসভবনে আগমন করেন। সেই সাক্ষাৎ তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলা মহিলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সাধারণ সম্পাদক (নারী বিষয়ক), কুষ্টিয়া শহর বিএনপি, নারী বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ, কুষ্টিয়া যুগ্ম আহ্বায়ক, জিয়া পরিষদ, কুষ্টিয়া
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া লেডিস ক্লাব, এছাড়াও তিনি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বিতরণ কমিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে তার সম্পৃক্ততা তাকে একটি বহুমাত্রিক নেতৃত্বের অবস্থানে নিয়ে গেছে।

কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক জগতের আলোকবর্তিকা এই নারীর অবদান সত্যিই জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে যেমন স্বরণীয় হয়ে থাকবেন তেমনি আগামী প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে সচেতন মহল মনে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.