দি হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা
ধর্মীয় সহিংসতা প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ; এমন উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার আহ্বান
ধর্মীয় বিবাদ, সহিংস পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও প্রশমন এবং পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির অনেক পরিস্থিতিই এড়ানো গেছে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সচেতনতা ও ধর্মীয় নেতাদের সহিংসতার বিরদ্ধে জোরালো অবস্থানের কারণে। এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তির বাংলাদেশ: আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে বক্তাদের কথায় এসব বিষয় উঠে আসে।
‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হাঙ্গার প্রজেক্টের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকার গুলশান-২-এ অবস্থিত লেকশোর হোটেলের লা ভিটা ব্যাংকুয়েট হলে এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সহনশীল ও প্রত্যেকেই অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আশা করেন, শান্তির দূত হিসেবে প্রত্যেক মানুষ তার দায়িত্ব পালন করবে।
জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম জামাল, এমপি বলেন, সকল ধর্মেই শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার কথা বলা হয়েছে। তাই সবাই যদি যার যার জায়গা থেকে নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। আন্তঃধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগের জন্য দি হাঙ্গার প্রজেক্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে করলে এমন উদ্যেগকে এগিয়ে নিতে সরকার থেকে এ পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার লুইস বেনন, শিক্ষক ও গবেষক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সাতক্ষীরা সদর) নাজমুন নাহার, ঢাকা আর্চডায়োসিসের ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়লগ কমিশনের কো-কোঅর্ডিনেটর সিস্টার রেবা ভেরোনিকা ডি’কস্টা এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়।
এর আগে সম্মেলনের শুরুর দিকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ার অধ্যাপক মাহমুদুল এইচ সুমন । মূল প্রবন্ধের ওপর নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম, স্পেস-এর ভাইস-চেয়ারপারসন ও মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান, আইএফইএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ এবং সেন্টার ফর ইসলামিক হেরিটেজের সমন্বয়কারী ইমরান হোসেন তুষার।
এছাড়াও, সম্মেলনে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের অর্জন, শিক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ক একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রকল্প এলাকা থেকে আগত শান্তি সহায়ক দলসমূহের নেতৃবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ দেশের ২৭টি জেলার ৭৪টি উপজেলায় এমআইপিএস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার আওতায় পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি), তরুণ শান্তিদূত, নারী শান্তি সহায়ক এবং একটি জাতীয় আন্তঃধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সহিংসতা প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।
























