লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রে।। কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

অথর
কুষ্টিয়া প্রেস ডেক্স :  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রে।। কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

■ কুষ্টিয়া প্রেস (সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায়) ■ বাংলাদেশের কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ও লালনসম্রাজ্ঞীখ্যাত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬) রাত আটটায় কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়ায় লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে স্মরণ সভা ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই কিংবদন্তি শিল্পীকে স্মরণ করা হয়।

লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম ডালিমের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, লেখক ও কলামিস্ট নূর মোহাম্মদ রবিউল, লালন গবেষক ও লেখক এস. এস. রুশদী, আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাংস্কৃতিক সংগঠক শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সংগীতশিল্পী জাহাঙ্গীর আলী খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লালন সংগীত চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক লালন সংগীতশিল্পী আসলাম বাউল।

স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, ফরিদা পারভীন শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, লালনগীতি ও বাঙালির লোকজ দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রচারকও ছিলেন। তার কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যায়। লালনের মানবতাবাদ, জীবনবোধ ও দর্শনকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি লোকসঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন (৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৪ – ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) নাটোরের সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার শৈশব বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ায়। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তার সংগীতজীবন শুরু হয়। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে তিনি লালনের বাণী ও সুর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান ছিল বিশেষভাবে স্মরণীয়। তার গাওয়া লালনের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও জনপ্রিয়তা পায়। গানের টানে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে।

সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রের নিন্দার কাঁটা গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকার সম্মান পান। ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। শুধু গান গাওয়াই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে লোকসংগীত ও লালনগীতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও যুক্ত ছিলেন ফরিদা পারভীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।