কুমারখালীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, কুষ্টিয়া কোর্ট চত্ত্বরে সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ সভা
নূর মোহাম্মদ রবিউল।। কুমারখালীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও আসামি জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া কোর্ট চত্ত্বরে সাংবাদিক সমাজের বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সাথে সাংবাদিকের উপর হামলাকারী দুই আসামীকে জামিন দেওয়ায় ঐ বিচারককে অপসারণের দাবী করেছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক নেতারা। এসময় সাংবাদিক নেতারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর,২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট প্রাঙ্গণে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ও জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক নেতারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জামিনের বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারককে কুষ্টিয়া থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তারা।
কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খন্দকার আল মামুন সাগর বলেন, সাংবাদিক উল্লাস হামলার পর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানোর পর জামিন দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত দিনের মতো মনে করে যদি কেউ ভাবেন যা খুশি তাই করবেন, সেটা ঠিক হবে না।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু বকর সিদ্দীক, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু প্রমূখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিবৃন্দ। এর আগে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিকরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা কাঠের বাটাম, বাঁশের লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উল্লাসের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁর মাথা ও চোখের নিচে গুরুতর জখম হয়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ক্যামেরা ভাঙচুর এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে পরে সহকর্মী সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা আহত উল্লাসকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার ঘটনায় শনিবার বিকেলে সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের ছেলে মো. শোভন হোসেন, ভাই মো. আনোয়ার হোসেন, দেহরক্ষী পরিচয়দানকারী রুহুল আমিনসহ অন্যদের নাম রয়েছে।
























