সাংবাদিক পরিবারকে শেষ বিদায় দিতে হাজারো জনতার উপচেপড়া ঢল
কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতা জগতের একটি গোলাপ দেবাশীষ দত্ত হারিয়ে গেল, শ্মশানে দেবাশীষ ও তাঁর ছেলের সৎকার সম্পন্ন
নূর মোহাম্মদ রবিউল।। সাংবাদিকতা জগতের একটি গোলাপ দেবাশীষ দত্ত হারিয়ে গেল, আর আমাদের মঝে ফিরে আসবেন না। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টায় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশু পুত্র স্বর্ণশীষ দত্তের সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তাঁদের শিশু ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম হোসেনসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতির মরদেহ শনিবার (২২ আগষ্ট, ২০২৬) রাত সাড়ে ১০ টায় দেশের বাড়ীতে আসে। শহরের আড়ুয়াপাড়াস্থ আসলে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তাকে দেখার জন্য ছুটে আসে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো নারী- পুরুষ। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন ও দুই দেশের আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে আজ দুপুরে দর্শনা বন্দর দিয়ে মরদেহগুলো দেশে স্বজনদের নিকটে ফিরে আনা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন, তাঁদের শিশু ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম হোসেনসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে তাঁদের সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত। তাকে দেশের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়ায় সে ওই সময় কলকাতায় ছিল না।
দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, আফসানা জীবিত অবস্থায় তাঁর মাকে বলেছিলেন, মৃত্যুর পর যেন তাঁকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়। মেয়ের এই ইচ্ছার কথা জানার পর তাঁর পরিবারও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। আফসানা ও তার আব্বাকে কুঠিপাড়া মডেল মসজিদে রাত অড়াইটায় জানাজা শেষে পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমিন ছিলেন মুসলিম।
এ ঘটনায় এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে কুষ্টিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। হোটেলের আরও দুই কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
























