কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সদর এমপির গাড়ি ভাংচুর, গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় ভাঙচুর

অথর
কুষ্টিয়া প্রেস ডেক্স :  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সদর এমপির গাড়ি ভাংচুর, গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় ভাঙচুর

■ কুষ্টিয়া প্রেস (সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায়) ■ কুষ্টিয়ায় শহরের ছায় রাস্তা মোড়ে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সহ সদর এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে নিয়ে এমপি আমির হামজার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এমপি আমির হামজার গাড়িতে ইটের আঘাত লাগে। শনিবার (১৫ আগস্ট,২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টায় দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্রমতে জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশ শেষে বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে সভাপতি সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার সময় এমপি আমির হামজার গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জামায়াত সমর্থক ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একপর্যায়ে সদর এমপি আমির হামজার গাড়িতে ইটের আঘাত লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে লেখা হয়, ‘এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা। বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা।’ তবে হামলার ঘটনায় বিস্তারিত কোনো তথ্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। হামলার সময়, স্থান এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত লেখা হয়নি। এতে শহরে নানা সোসাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে সন্ধ্যার দিকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উসকানিমূলক আচরণ করে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, এমপি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যরা এমপির গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেছেন, ‘বিকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাতব্বর হোসেন জানান, সদর আসনের সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার স্বার্থে তার বাড়ির আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অপরদিকে রাতে শহরে এমপি মুফতি আমির হামজার উপর গণ অধিকার কর্তৃক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।