দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে যশোরে আঞ্চলিক তরুণ শান্তি সহায়ক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উদ্যোগে যশোরে ‘আঞ্চলিক তরুণ শান্তি সহায়ক সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফসিডিও এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সম্মেলনে খুলনা বিভাগের ৩টি জেলার ৫টি উপজেলার পিএফজি ও ওয়াইপিএজির সদস্যসহ ৪০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোরের আরআরএফ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মেহেরপুর ওয়াইপিএজির সদস্য শিহাব হাসান ও কুষ্টিয়া ওয়াইপিএজির সদস্য তানিয়া খাতুন সঞ্চালনা করেন। কুষ্টিয়া ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারী সাদিক হাসান রহিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয় পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।
সম্মেলনে তরুণ শান্তি সহায়ক সদস্যরা উপজেলা ভিত্তিক দলে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের বিগত কার্যক্রম, অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংঘাত নিরসন, সহিংসতা প্রতিরোধ, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে করণীয় নির্ধারণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব সুজন সরকার বলেন, “ইসলাম কখনো উগ্রবাদ সমর্থন করে না। যারা দেশের ভালো চায় না, তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি সম্প্রতি মণিরামপুরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতির চর্চা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব রুপালী রানী বলেন, তরুণদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম বাংলাদেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে একটি সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি বাঘারপাড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জনাব মোঃ রেজাউল করিম তরফদার বলেন, ধর্ম কখনো অন্যের ধর্মের প্রতি আঘাত বা বিদ্বেষ ছড়ানোর শিক্ষা দেয় না। তিনি বেকারত্বের কারণে তরুণদের মাদকাসক্তি, অপরাধ ও সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
সম্মেলনে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জনাব মোঃ খোরশেদ আলম শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের এরিয়া কোঅর্ডিনেটর জনাব এস. এম. রাজু জবেদ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ওয়াইপিএজি গঠনের প্রেক্ষাপট এবং তরুণ শান্তি সহায়ক দলগুলোর অর্জিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি উপজেলা ভিত্তিক গ্রুপ ওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ফ্যাসিলিটেশন করেন এবং ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারীবৃন্দ তাদের অর্জিত কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন পিএফজি, ওয়েভ ও আন্ত:ধর্মীয় প্লাটফর্মের সদস্যবৃন্দ। দিনব্যাপী আলোচনায় তরুণদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাত নিরসন, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ, ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া ওয়াইপিএজির সমন্বয়কারী জনাব সাদিক হাসান রহিদ বলেন, “তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। নিজ নিজ এলাকায় সংঘাত নিরসন, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় তরুণ শান্তি সহায়ক বন্ধুরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আজকের সম্মেলনের অভিজ্ঞতা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা আরও বিস্তৃত করতে চাই।”
তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, আয়োজক ও তরুণ শান্তি সহায়ক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি শপথ বাক্য পাঠের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সম্মেলনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের যশোর অঞ্চলের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর জনাব মোঃ আশরাফুজ্জামান ও অ্যাকাউন্টস অফিসার অধীশ দাশ।
























