কুষ্টিয়ার ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। কুষ্টিয়া বৃহত্তর পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

অথর
কুষ্টিয়া প্রেস ডেক্স :  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ার ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন। কুষ্টিয়া বৃহত্তর পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নূর মোহাম্মদ রবিউল।।  ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ১৭ অক্টোবর শনিবার শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ১৯ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, কুষ্টিয়া এক বৃহত্তর পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতী নদীতে আবার নৌকা চলবে। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুল নবী।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসব ঘিরে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে জড়ো হয়েছেন দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্তরা।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসে লালন উৎসব আয়োজন নিয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি স্কুলভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের লালন সম্পর্কে জানানো যায় কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী চান, লালনের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক।

লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের পরিচয়কেন্দ্রিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। মানুষ সাদা না কালো, মুসলিম না হিন্দু কিংবা ইহুদি না মুসলিম- এ ধরনের পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লালনের দর্শন অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ।

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—লালনের এই বাণী ধারণ করে মানবতার শিক্ষা ও সত্যের সন্ধানে ভক্তরা আখড়াবাড়িতে আসছেন। প্রচলিত প্রথা ও সাধু রীতি অনুসারে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বাল্যসেবার মধ্য দিয়ে বাউল ভক্তদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রোববার সকালে রাখালসেবা ও দুপুরে পুণ্যসেবা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি সাধু-গুরুদের মধ্যে ভক্তি, ভাব ও দর্শন বিনিময়ের আয়োজনও রয়েছে।

উৎসব শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেন বাউল সাধকরা। তারা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গেয়ে চলেছেন লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক বাণী ও দর্শনভিত্তিক গান। উৎসব ঘিরে কুষ্টিয়ায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রায় ৮০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় লালন মঞ্চে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এতে লালন একাডেমির শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনের করে থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।