যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

অথর
নূর মোহাম্মদ রবিউল  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :২৭ জুন ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
যশোরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

নূর মোহাম্মদ রবিউল।। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যশোরে আঞ্চলিক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস) প্রকল্পের আওতায় ফরেইন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে শনিবার যশোরের আরআরএফ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

যশোর অঞ্চলের প্যান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালি সরকার, কেশবপুরের পুরোহিত বাসুদেব গোস্বামী, মেহেরপুরের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি সুমী বিশ্বাস এবং বাঘারপাড়ার মুফতি সায়্যেদুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি অধ্যাপক আবু হেনা মো. গোলাম রসুল বাবলু, কুষ্টিয়া জেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি ও ধর্মীয় বক্তা মুফতি মাওলানা মোঃ আব্দুল হান্নান, কবি ও কলামিস্ট নূর মোহাম্মদ রবিউল, সনাতন ধর্মগুরু ও গৌরাঙ্গ সংঘ বাংলাদেশ-এর প্রধান রতন লাল মৈত্র, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম দলের কুষ্টিয়ার নেতা মুহাঃ আব্দুল আলিম, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কুষ্টিয়া জেলার সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান বাদশা, কুষ্টিয়া সদরের হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টাব্দ কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক অলোক অধিকারী প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেল পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেশবপুর উপজেলার পিএফজি সমন্বয়কারী মো. মুনছুর আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। সংলাপের সারসংক্ষেপ ও করণীয় তুলে ধরেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. খোরশেদ আলম এবং এমআইপিএস প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এরিয়া কোঅর্ডিনেটর এস. এম. রাজু জবেদ।
সংলাপে বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সম্প্রীতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই করে মতামত দেওয়া উচিত। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালি সরকার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সমন্বয় সভাগুলোতে নিয়মিত সম্প্রীতির বিষয়টি আলোচনায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থায়িত্বশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত ১১ দফা ঘোষণাপত্রে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সর্বসম্মতিক্রমে স্বাক্ষর করেন।
সংলাপে যশোর অঞ্চলের তিন জেলার পাঁচ উপজেলার পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি), ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি), বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী, তরুণ এবং স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর মো. আশরাফুজ্জামান ও অ্যাকাউন্টস অফিসার অধিশ দাশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।