কুষ্টিয়ায় শীর্ষ চরমপন্থি নেতা জাহাঙ্গীর কবির লিপটন ও তার তিন সহযোগী গ্রেফতার

অথর
কুষ্টিয়া প্রেস ডেক্স :  কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৬ জুন ২০২৫, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় শীর্ষ চরমপন্থি নেতা জাহাঙ্গীর কবির লিপটন ও তার তিন সহযোগী গ্রেফতার

কুষ্টিয়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে একসময়ের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা জাহাঙ্গীর কবির লিপটন(৫৫) ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দূর্বচারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ৬টি বিদেশি পিস্তল, একটি লং ব্যারেল গান, ম্যাগজিন, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বেলা ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের মেজর মোস্তফা জামান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ১। নাম- জাহাঙ্গীর কবির লিপটন (৪৮), পিতা- মোঃ আজিজুর রহমান, ২। নাম- মোঃ রাকিব (৩৮), পিতা- রফিকুল ইসলাম এন্টু, ৩। নাম- মোঃ লিটন(২৬), পিতা- জহির ইসলাম, ৪। নাম- মোঃ সনেট হাসান (৪৫), পিতা- আব্দুল মজিদ, তাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দূর্বাচারা গ্রামে।

অভিযানে উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো নিম্নরুপ :
মোট বিদেশি পিস্তল ৬ টি, এর মধ্যে ৫টি পিস্তল (তৈরি: যুক্তরাষ্ট্র), ১টি পিস্তল (তৈরি: জাপান)।১০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন,৩৩ রাউন্ড ৯ এমএম পিস্তলের গুলি, ৫০ রাউন্ড ৭.৬২ মি.মি গুলি, ২১টি অতিরিক্ত রাউন্ড, ২৫টি বল অ্যামো. ১টি এসএলএফ ইম্পারেটর মডেলের লং ব্যারেল গান (তৈরি: জার্মানি), ৩৬ রাউন্ড ১২ বোর অ্যামো,,১০টি দেশীয় অস্ত্র, ৬টি বল্লম, ৮টি শিল্ড, ৩টি অস্ত্র ক্লিনিং কিট ও ১টি পিস্তল কভার।

জানা গেছে, চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের একসময়ের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন লিপটন। ২০১২ সালের ডিএসবির তালিকায় শীর্ষ চরমপন্থী হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ছাত্র থাকাকালীন চরমপন্থি দল গণমুক্তিফৌজে নাম লেখান। একপর্যায়ে নিজেই বাহিনী গড়ে তোলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর লিপটন ভারতে পালিয়ে যায়। সেখানে অবস্থান করেই সে দেশে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এরপর ২০১৩ সালে লিপটন দেশে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, লিপটন নিজেকে ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স’ বলে পরিচয় দিত। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তার চাঁদা বাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের হাত ধরে প্রকাশ্যে আসেন বলেও জানা যায়। এরপর থেকে এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.