তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করেন তার একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করেন তার একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা জারনাজ রহমান। এর ফলে রাজনীতিতে তার সহসাই অভিষেক হতে যাচ্ছে কি না, রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দল ও জায়মা রহমানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা না দেওয়ায় ‘একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ঘটনা’ তার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া বলে মনে করেন না অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও জায়মা রহমানকে এর আগে রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো প্রোগ্রামে দেখা যায়নি। অবশ্য ব্যারিস্টার জায়মার যোগ্যতা ও কার্যক্রম দলের জন্য উপকারী কিংবা দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো হলে ভবিষ্যতে তার বিএনপির রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটা দোষের কিছু নয়। কারণ, ভারতীয় উপমহাদেশে পারিবারিক রাজনীতির ঐতিহ্য রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সবার নজর এখন জায়মা রহমানের দিকে।
মার্কিন কংগ্রেসের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠান হয়। যেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা জারনাজ রহমান অংশগ্রহণ করেন। জায়মা রহমান লন্ডন থেকে এবং মির্জা ফখরুল ও আমীর খসরু ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান।
ভারতীয় উপমহাদেশে পারিবারিক রাজনীতির ঐতিহ্য রয়েছে। সে হিসেবে জিয়া পরিবারও ব্যতিক্রম নয়। জিয়াউর রহমানের পর এ পরিবার থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এসেছেন। এখন আলোচনা হচ্ছে জায়মা রহমানকে নিয়ে; বিশেষ করে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর থেকে আরও ডালপালা মেলেছে সেই আলোচনা। ফলে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের এ সদস্যের শিগগির রাজনীতিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে কি না—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা।
জায়মা রহমানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো কৌতূহলের পর্যায়েই রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বিষয়টা এখনো কৌতূহল পর্যায়েই আছে। কারণ, জায়মা রহমানের রাজনীতিতে আসা নিয়ে বিএনপি এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি কিংবা জায়মা রহমান নিজেও বলেননি তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। তবে জায়মা রহমানের যোগ্যতা-কার্যক্রম যদি দলের জন্য উপকারী হয়, দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সে অবস্থায় জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকার হিসেবে ভবিষ্যতে তার দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার, দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আছে। এটা দোষের কিছু না। কারণ, ভারতীয় উপমহাদেশে পারিবারিক রাজনীতির ঐতিহ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবশ্য আন্তর্জাতিক একটা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে জায়মা রহমান রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন, এমনটা বলা যাবে না। হয়তো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যস্ততার কারণে তার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে’ অংশ নিয়েছেন জায়মা রহমান। তবে বিএনপি যে জায়মাকে প্রতিনিধিত্ব করতে সুযোগ দিয়েছে, সেটা তার জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। দলে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে উনি সেখানে যেতেই পারেন। তা ছাড়া বিএনপিতেও তরুণ নেতৃত্ব আসছে। সে দিক থেকে জায়মার অংশগ্রহণ একটা ভালো বিবেচনার বিষয় হয়েছে। কেননা, তরুণরা কীভাবে ভাবছে, কী ভাবছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আর বিএনপিও যে তরুণদের প্রাধান্য দিচ্ছে, জায়মার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেটাও প্রমাণিত হয়েছে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

























Leave a Reply