আত্মিক শুদ্ধতায় রমজান
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। আর আত্মিক শুদ্ধতায় এই রমজান মাস তিনটি অংশে বিভক্ত- এক. রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), দুই. মাগফিরাত (ক্ষমা) ও তিন. নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)।
এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগবিলাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। এই সময় স্বামী-স্ত্রীর সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা। রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল প্রকার গুনাহ থেকে গুরুত্ব সহকারে বেঁচে থাকা ও গোনাহ কাজ না করা। সকল হারাম কাজ ছেড়ে হালাল উপার্জন প্রতিষ্ঠা করা। অতঃপর জগতের সকল মোহ-মায়া থেকে বেরিয়ে নিজেকে শুধু আপন রব বা মহান আল্লাহ তায়া’লা ধ্য্যনে নিমজ্জিত রাখা।
রমজানের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের এবাদতের চেয়েও উত্তম লাইলাতুল কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।
ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রত্যেক সবল মুসলমান নর-নারীর জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ, যার অর্থ অবশ্য পালন করতে হবে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, ‘হে যারা ঈমান এনেছো তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পারো (সুরা বাকারা : ১৮৩)।
হযরত আদম আ. যখন নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাওবাহ করেছিলেন তখন ৩০ দিন পর তার তাওবাহ কবুল হয়। তারপর তার সন্তানদের ওপরে ৩০টি রোজা ফরজ করে দেয়া হয়। নুহ আ.-এর যুগেও রোজা ছিল। কারণ, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন : হযরত নুহ আ. ১ শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোজা রাখতেন। হযরত ইবরাহিমের যুগে ৩০টি রোজা ছিল বলে কেউ কেউ লিখেছেন। হযরত দাউদ আ.-এর যুগেও রোজার প্রচলন ছিল। ইহুদিদের মাঝেও রোজা রাখা ছিল আল্লাহ’র আদেশ। মোসিহ তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ক্ষুৎ-পিপাসার ভিতর দিয়ে অতিবাহিত করেছেন। মোসির অনুসারীদের মাঝে চল্লিশ রোজা রাখাকে উত্তম বলে বিবেচনা করা হতো। যিশুও চল্লিশ দিন পর্যন্ত রোজা রেখেছেন। মানব জাতির সৃষ্টির শুরু থেকে রোজার নির্দেশ রয়েছে।
























